ক্রীতদাসের হাসি — বই পর্যালোচনা

 একদিন রাতে খলিফা হারুনুর রশিদ এবং তাঁর সহচর মশরুর বাগানে হাঁটছিলেন৷ হঠাৎ তিনি পাশের গোলামদের বস্তি থেকে হাসির শব্দ শুনতে পান৷ সেই মন মাতানো প্রাণোচ্ছল হাসির শব্দ বাদশার মন কাঁড়ে। তিনি মশরুরকে বললেন — কারা হাসে তাদের খুঁজে বের করো। 

দুইদিন পর রাতে মশরুর, বাদশাহকে নিয়ে বাগানে গেলেন এবং একটি গাছের মগডালে উঠে দূরবীন দিয়ে সেই বস্তির সেই ঘরে দেখতে লাগলেন ৷ 

তিনি দেখতে পান — সেখানে হাবসী গোলাম তাতারী এবং আর্মেনীয় দাসী মেহেরজান প্রেম ভালোবাসায় মগ্ন এবং হাসিতে মেতে আছেন। 


বাদশার মন বিষণ্ণ ছিল ।  তাদের  হাসির শব্দ শুনে তার মনে আনন্দ ফিরে আসে । তিনি পরদিন কয়েকজন দারোয়ান, মশরুর এবং কবি ইসহাককে নিয়ে সেই বস্তিতে গেলেন। 

প্রেমিক যুগলকে হাতে নাতে ধরলেন এবং তাদের মনোমুগ্ধকর হাসির জন্য পুরস্কৃত করলেন। 


তাতারীকে গোলাম থেকে মুক্ত করে দিলেন এবং তাকে বাগদাদ শহরের পশ্চিমের একটি বাগানের  মালিক বানিয়ে দিলেন। তার বিনিময়ে বাদশাহকে হাসি শুনাতে হবে। 


ফলে মেহেরজান এবং তাতারী আলাদা হয়ে গেল। তাতারীকে মূলত বাগানের মালিক করে দিয়ে একটি বলয়ে আবদ্ধ করে রেখেছিল । তাকে এর বাইরে যেতে দেওয়া হত না। তাতারী বুঝতে পারল, তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। 


রাজা একদিন কবি আবু ইসহাক, আবু নুয়াস, আবুল আতাহিয়াকে নিয়ে তাতারীর কাছে গেলেন তার হাসি শুনার জন্য কিন্তু তাতারী হাসলো না। 

আবু ইসহাক বলল — হাসতে হলে উপাদান লাগে কিন্তু তার তো সেই উপাদান (মেহেরজান) নাই,  সে হাসবে কিভাবে?  


আবু নুয়াস বাদশাহর সাথে বাজি ধরলো — তাতারী আর কোনোদিন হাসবে না।  


কিন্তু বাদশাহ বলল— দীরহাম দিলে সে হাসবে যেমন আমি তাঁকে ক্ষমতা দিয়েছি তাকে নারী দিব, খাবার দিব আরো অনেক কিছু দিব। তাকে আমি হাসাবোই তার হাসি শুনবোই। 


আবু নুয়াস এবং বাদশাহ বাজি ধরলেন। কে জিতবে

এই বাজি?  

.

উপন্যাসটি পড়ার সময় আমি দ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছিলাম এটি উপন্যাস নাকি নাটক। সংলাপ নির্ভর লেখা । লেখক বলেছেন এটি উপন্যাস। তাই আমিও উপন্যাস ই বলছি৷ আর নাটক হলে পর্ব বা অধ্যায়গুলো অংকে ভাগ করা থাকতো। কিন্তু নাই। 

.

এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। পাকিস্তানি সামরিক  শাসক আইয়ুব খানের আমলে। তার এই শাসনকালের প্রতিবাদে এটি একটি রূপকধর্মী প্রতিবাদী উপন্যাস৷ 

তবে কোনো পাঠক যদি আগে থেকে না জানে যে, এটি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের প্রতিবাদে শওকত ওসমান লিখেছিলেন। তাহলে কেউ এই বইয়ের সাথে সেই সময়টাকে রিলেট করতে পারবে না। 

আমি পেরেছি কারণ আমি  আগে থেকেই জানতাম এবং প্রকাশকাল সম্পর্কে জেনে৷ 


বইটি ভালো। আমার কাছে ভালো লেগেছে। 

.


বই : ক্রীতদাসের হাসি

লেখক : শওকত ওসমান 

পৃষ্ঠা : ৮০

২৮/০৪/২০২৫


Comments

Popular posts from this blog

আমি আবু বকর — আসিফ নজরুল। রিভিউ